Type Here to Get Search Results !

কোভিড ভ্যাকসিন কেনায় অনিয়ম: অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি

করোনাকালে ভ্যাকসিন আমদানির নামে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

এর আগে করোনা কালে কোভিড সামগ্রী, মাস্কসহ নানান সরঞ্জামাদি কেনায় অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধাম করেছে দুদক। সম্প্রতি করোনা সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা সুপারিশ করেছে দুদক। তবে ভ্যাকসিন কেনায় অনিয়ম নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করলো দুদক।

দুদক সূত্র জানায়- অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, আর্থিক লেনদেন ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের নানা দিক এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদকের কাছে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও সেটিকে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে দিয়ে আমদানিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া চালু করা হয়। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী চক্র হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। 

অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বেক্সিমকো গ্রুপসহ বিগত সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-উপদেষ্টার নাম। অভিযোগে বলা হয়, করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে যখন সারা দেশ দিশেহারা, তখন দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ‘বঙ্গভ্যাক্স’ নামে করোনা প্রতিরোধী একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয়। বিষয়টি সে সময় দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় এবং দেশীয় ভ্যাকসিন নিয়ে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু সেই আশার আলো শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। 

অভিযোগ অনুযায়ী, বঙ্গভ্যাক্সের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হলে গ্লোব বায়োটেককে বেক্সিমকোর সঙ্গে যৌথ শেয়ারে যেতে চাপ দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেশীয় এ উদ্যোগকে নানা অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের পথ রুদ্ধ করে বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানির পথকে অগ্রাধিকার দেয়। এর ফলে গ্লোব বায়োটেকের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। 

অন্যদিকে, ভ্যাকসিন আমদানি, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের নামে একটি চক্র অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দুদক সেই অভিযোগের আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। 

দুদক সূত্র জানায়, দীর্ঘ ছয় বছর পর এ অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নথি, সিদ্ধান্তপত্র, আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ও আর্থিক বিবরণী চাওয়া হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তথ্য যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ, নথি জব্দ এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এসএম/এমএসএম



from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/TA1lfFG

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.